Bnanews
Bnanews.com.bd is the organization site of Bangladesh News Agency. Bnanews is a Banglanews Portal

শুরু হলো মাগফিরাতের দশক

বিএনএ,ডেস্ক:পবিত্র মাহে রমজানের রহমতের দশক শেষ হয়েছে।ভাগ্যদুয়ারে এসেছে মাগফিরাত।পাপমুক্তির সওগাত নিয়ে মুসলামাদের পুণ্যস্বরে ডাকছে এ দশক। মাগফিরাত শব্দের অর্থ মাফ, ক্ষমা, মার্জনা প্রভৃতি। তাই এই ১০ দিন গুনাহভরা আমলনামার নিষ্কলুষত্ব ফিরিয়ে আনার এ মহান সুযোগ।মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়ার অপার আনুতোষিক।

মহানবী (সা.) রমজানের প্রথম ভাগ (১-১০ দিন) রহমতের, মধ্যভাগ (১১-২০) মাগফিরাতের এবং (২১-৩০) নাজাতের বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রমজান এমন একটি মাস, যার প্রথম ভাগে আল্লাহর রহমত, মধ্যভাগে গুনাহের মাগফিরাত এবং শেষ ভাগে দোজখের আগুন থেকে মুক্তিলাভ রয়েছে। (মিশকাত)

এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, রমজানের রোজা হলো গুনাহ মাফ এবং মাগফিরাত লাভের মধ্য দিয়ে চিরশান্তি, চিরমুক্তির একটি সুনিশ্চিত ব্যবস্থা, যা অতি নির্ভরযোগ্য একটি সুযোগ। কিন্তু যে বা যারা এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করবেনা তাদের ধ্বংস অনিবার্য।

মধ্যদশক মাগফিরাত মনে হলেও এর পরিধি পুরো রমজান ব্যাপী।সমগ্র মাসজুড়ে ক্ষমা অবারিত।এ মাসের সম্মানে করুণার উৎস মহান আল্লাহ প্রতিদিন অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।হাদিসে পাকেও এসেছে এ বিষয়ে চিত্তাকর্ষক বর্ণনা।সাহাবিয়ে রসুল সায়্যিদুনা হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, উম্মতের কান্ডারি প্রিয় হযরত সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও একাগ্রতা সহকারে একান্ত পুণ্যের প্রত্যাশায় মাহে রমজানের রোজা পালন করবে, তার অতীত জীবনের সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করা হবে।আর যে ব্যক্তি রমজানের রাতে (তারাবি) নামাজে দাঁড়াবে, তার পূবের পাপরাশি মিটিয়ে দেয়া হবে।” [সহিহ বুখারি শরিফ, হাদিস নং-১৯০১।]

মধ্যবর্তী দশককে মাগফিরাত ঘোষিত হয়েছে-এটা বিশেষ বোনাস।এর পাশাপাশি বিবিধ অবকাশে স্বীয় করুণায় অসংখ্য বান্দার পাপের পর্বত বিধ্বস্ত করে দেন করুণাময় আল্লাহ।বিভিন্ন হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে-হুজুর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের অমীয় বাণী, যে কেউ এ মাসে কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে, তা হবে ঐ ব্যক্তির পাপমোচন ও জাহান্নাম-মুক্তির হাতিয়ার। একই হাদিসে এও উল্লেখ আছে, “যে ব্যক্তি এ মাসে তার অধীনস্থ দাসদাসীদের দায়িত্ব কমিয়ে দেবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে ক্ষমা করবেন এবং জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ দান করবেন।” [মিশকাতুল মাসাবিহ, পৃ. ১৭৪।]

মাহে রমজানের এই দশদিন মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রাপ্তির বিশেষ যোগ প্রত্যেক মুসলমানকে ব্যাপকরূপে আশান্বিত করে রাখে। এ দশকে ক্ষমা লাভের অবকাশ রয়েছে অধিকতর। তাই প্রত্যেক মুসলমানকে এমনভাবে সিয়ামসাধনা ও ইবাদতের করতে হবে, যা মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। সে কারণে মাগফিরাতের এ দশকে সতর্ক হওয়া জরুরি।

মহান রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেন, ‘তোমাদের অন্তরে যা আছে, সে সম্পর্কে তোমাদের রবই অধিক জ্ঞাত। যদি তোমরা নেককার হও তবে তিনি তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের প্রতি অধিক ক্ষমাশীল।(বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৫)

আর করিম চৌধুরী