Bnanews
Bnanews.com.bd is the organization site of Bangladesh News Agency. Bnanews is a Banglanews Portal

অতিশয় ফজিলতের নামাজ তাহাজ্জুদ

বিএনএ ডেস্ক:ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের কাছে এক প্রিয় নামায হচ্ছে তাহাজ্জুদ। এটি একটি ঐচ্ছিক ইবাদত। এটা বাধ্যতামূলক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।গভীর রজনীতে একান্তচিত্তে এ নামায পড়তে হয।এই নামাজ অতিশয় ফজিলতের নামাজ।দিনমান ক্লান্তি শেষে সৃষ্টি যখন নীরব ঘুমে আচ্ছাদিত, ঠিক সে মুহূর্তে জেগে উঠে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যকামী ভাগ্যবানরা। বিলাস বিছানা, আয়েস নিদ্রা এবং বিশ্রামগ্রহণ ত্যাগ করে দাঁড়িয়ে যায় মহা মহিয়ান চিরঞ্জীব আল্লাহর দরবারে। এ নামাজ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে সবচেয়ে প্রিয়।তাহাজ্জুদ আদায়কারী ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা খুব বেশি পছন্দ করেন। যে ব্যক্তিকে আল্লাহ পছন্দ করবেন, নিঃসন্দেহে দুনিয়ার সব মানুষ ওই ব্যক্তিকে সম্মান ও পছন্দ করবেন।

তাহাজ্জুদ শব্দটি আরবি। এর ব্যবহার পবিত্র কোরআনে আছে।নিদ্রা যাওয়া ও জাগ্রত হওয়া-এ পরস্পর বিরোধী দুই অর্থে তাহাজ্জুদ শব্দটির ব্যবহার। সাধারণত কিছুক্ষণ ঘুমানোর পর যে নামায আদায় করা হয়, তাই তাহাজ্জুদের নামায।

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর তাহাজ্জুদই সর্বোত্তম নামায।  ইসলামের প্রাথমিক যুগে এর বিধান ছিলো ফরয।  পরবর্তীকালে ফরয বিধান রহিত হয়ে যায়।  বর্তমানে এ নামায সুন্নাত কিংবা নফল-এ নিয়ে ফিকহবিদদের মধ্যে মতানৈক্য আছে।অনেক আলেম নামাজকে সুন্নাতে মোআক্কাদা বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।তবে অধিকাংশ ফকিহ’র মতে তাহাজ্জুদ নামাযের নফলের অন্তর্ভূক্ত।

এই নামাজ চার রাকাত থেকে বার রাকাত পর্যন্ত পড়ার নিয়ম আছে।তবে দুই রাকাত পড়লেও তাহাজ্জুত আদায় হয়ে যাবে।অন্যদিকে আট রাকাতের ব্যপারেও অসংখ্য হাদিসের সাক্ষ্য আছে।  তবে, সাধ্যমত দু রাকাত থেকে বার রাকাত পর্যন্ত আদায় করার প্রচেষ্টা করা সমীচীন।

রাতের দ্বিপ্রহর থেকে সোবেহ সাদেক পর্যন্ত এই নামাজ আদায় করা যায়।তাহাজ্জুদ নামাজ রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আদায় করা উত্তম। তবে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে ইশার নামাজের পর দুই রাকাত সুন্নত ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েজ আছে।

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ(স:)এর প্রতি এই নামাজ ফরজ ছিল।মহানবী প্রতিনিয়ত এই নামাজ আদায় করতেন।সাহাবীদেরও এই নামাজ আদায় উৎসাহিত করতেন মহানবী।

সূরা আল ফুরকান-এর ৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে “আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যারা তাদের রবের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।সূরা বনি ইসরাইলে এরশাদ হয়েছে ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ প্রতিষ্ঠা করুন, এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত, আশা করা যায় আপনার প্রভু এর দ্বারা আপনাকে প্রশংসিত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবেন।

এ নামাযের ফযিলত বর্ণনায় অসংখ্য হাদিস বিবৃত হয়েছে।  হজরত আয়েশা (রা.) ও বাগভী (রহ.) বলেন, সূরা মুজ্জাম্মিলের নির্দেশানুযায়ী তাহাজ্জুদ তথা রাতের নামাজ রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সমগ্র উম্মতের ওপর ফরজ ছিল। ওই আয়াত দ্বারা তাহাজ্জুদ নামাজ কেবল ফরজই করা হয়নি, বরং তাতে রাতের কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ মশগুল থাকাও ফরজ করা হয়েছিল। কারণ আয়াতের মূল আদেশ হচ্ছে কিছু অংশ বাদে সারা রাত নামাজে মশগুল থাকা।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তখন স্বয়ং মহান আল্লা দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন এবং বলতে থাকেন, ওগো! কে আছ যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে দিয়ে দেব। ওগো! কে আছ যে, এ সময় আমার কাছে গোনাহ থেকে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বোখারি : ১১৪৫)।

সাহাবিয়ে রসূল হযরত আবু উমাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে জানতে চাওয়া হলো, কোন দোয়া আল্লাহর দরবারে বেশী কবুল হয়? উত্তরে তিনি ইরশাদ করেন, “রাতের শেষপ্রহর এবং ফরয নামায পরবর্তী দোয়া।” [সুনানু তিরমিযি, হাদিস নং-৩৪২১।]

এ নামায আদায় শেষে সুফিয়ায়ে ইযাম বিভিন্ন দোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।  মনের গহিনে থাকা সমস্ত আকুতি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে পেশ করার বাধাহীন সময়। কোলাহলমুক্ত নীরব পরিবেশে একান্তাত্মায় মহামহিয়ানের দয়া-অনুকম্পায় একাকার হতে বাধা থাকে না।  থাকে না দুনিয়ার অন্য কোনো চিন্তাচেতনা।

একে অপরকে এ নামাযের প্রতি উৎসাহ এবং ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়া আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে অত্যন্ত পছন্দ।  পরস্পরকে জাগ্রত করে নিশীথের এ আরাধনায় অংশগ্রহণকারী স্বামী-স্ত্রীর জন্য মনভরে দোয়া করেছেন স্বয়ং  প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “করুণাময় আল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর রহমত বর্ষণ করেন, যে রাতের বেলায় নিজে জাগ্রত হয় এবং নিজের স্ত্রীকেও জাগ্রত করে নামায আদায় করে।  স্ত্রী যদি না উঠে তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে জাগিয়ে দেয়।

আর করিম চৌধুরী

তথ্য সূত্র-আ’মালে নাজাত ও উইকিপিডিয়া