Real Time True News

উহান থেকে শিখতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ(১)

বিএনএ,বিশ্ব ডেস্ক :  উহান ছিল করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম উৎপত্তিস্থল। আগে কেউ জানতোনা করোনাভাইরাসকে কিভাবে মোকাবিলা করতে হয়। অনেক চড়াই উৎড়াই পাড় হয়ে উহান দেখিয়েছে কিভাবে জিততে হয়।

মহামারিটির প্রথম হটস্পটে বিকশিত প্রোটোকলগুলি( কমিউনিকেশন ঘটার জন্য যে নিয়ম নীতির সমষ্টি ব্যবহার করা হয় তাকে  প্রটোকল বলে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের একই সমস্যার সাথে লড়াই করার জন্য গাইড করতে পারে। কারণ একই যুদ্ধে লড়ছে আমেরিকা ও ইউরোপ।  সংক্রমণ রোগের একজন বিশেষজ্ঞ যিনি উহানের হাসপাতালকে নিরাপদ জোনে সাজিয়েছিলেন যাতে সামনে থেকে এ অদৃশ্য সংক্রমণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়।  যে অভিজ্ঞতাটুকু তার হয়েছে তা তিনি শেয়ার করেছেন।

প্রথম যখন সংক্রামক করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) উহানে হামলে পড়ে তখন ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর প্রচণ্ড ঘাটতি দেখা দেয়। সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায়, মেডিক্যাল কর্মীরা ওয়ার্ডগুলিতে আবর্জনা রাখার ব্যাগ পরে থাকতো, আলট্রা ভায়োলেট বিকিরণের মাধ্যমে তাদের জীবাণুমুক্ত করে মুখোশগুলি পুনর্ব্যবহার করতো । তাদের হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ঘুমাতো। সুরক্ষা পোষাকগুলোও রাখতো সেখানে। তারা জানত না যে কাল আবার ডিউটি শুরু করতে তাদের আরো কিছু করতে হতো কীনা।

বেইজিংয়ের ডাইটান হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াং রংমেং প্রথম সরাসরি দেখেছিলেন যে কীভাবে সামনের লাইনে চিকিৎসা করতে গিয়ে কী কী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।  অপ্রতুল সরবরাহ ব্যবস্থা তাদের কিভাবে ভুগিয়েছিল।  প্রাদুর্ভাবের প্রাথমিক পর্যায়ে এই সংকটজনিত বাধা তাদের কতটুকু অসহায় করে তুলেছিল।একই দৃশ্যের অবতারণা ঘটছে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে। করোনার ভরকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। এর মধ্যে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৮৭ হাজারে পৌঁছেছে। মৃতের সংখ্যা ২৩ হাজার ৬ শ জন পার করেছে। ইউরোপে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লাখ ৭ হাজার , মৃতের সংখ্যা ৭৯ হাজার ৯ শ ৮৯ জন অতিক্রম করেছে। করোনা মহামারি হিসেবে ঘোষিত হলে সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারকরণে দাবি জোরদার হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবলভাবে হিট করেছে করোনা। গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যবিভাগ হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে পিপিইর ঘাটতি পূরণ করা    ছাড়া চিকিৎসক কিংবা নার্স কেউই চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন না। নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাইয়ে অবস্থিত ইচা স্কুল অব মেডিসিনের প্রফেসর বেনহুর লী বলেন,এন ৯৫ মাস্ক জীবাণুমুক্ত করার মতো পরীক্ষার ব্যবস্থাও নেই এখানে। কীভাবে করবে সে ব্যবস্থাও নেই। জিয়াং ছিলেন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য। তাকে হুবাই প্রদেশে পাঠানো হয় মেডিকেল টিমকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য। তিনি সেখানে হাতেকলমে শেখান কিভাবে নিজেদের সুরক্ষা দিয়ে রোগীকে সারিয়ে তুলতে হয়। এ সমস্ত প্রশিক্ষণগুলো আক্রান্ত হ্ওয়া দেশগুলোতে এ মুহূর্তে জরুরি। জিয়াং বলেন, আপনি নিজেকে সুরক্ষা দিতে না পারলে কোনভাবেই আপনি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সক্ষম হবেন না। পিপিই দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত করতেই হবে নিজেকে।  হাসপাতালের  আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলো যথাযথ প্রটোকল বিন্যাসে সাজিয়ে তুলতে হবে তবেই বিপদমুক্ত হওয়া যাবে। হুবেই প্রদেশে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ১৫০০ স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। কারণ সীমাবদ্ধ প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। সে সময় তারা কেউ যথাযথভাবে সুরক্ষিত ছিলেন না।

 

হাসপাতালগুলি প্রাথমিকভাবে কোভিড -১৯ রোগীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাতে নিজেরাই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু জানুয়ারির শেষের দিকে দেশজুড়ে চিকিৎসক দলগুলি আসতে শুরু করে। এরপর পরিস্থিতি বদলে যায়।  প্রোটোকলগুলি যথাযথভাবে সুবিন্যস্ত হয়।  জীবাণুনাশক পদ্ধতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদ্ধতি সুরক্ষা প্রদান নিশ্চিত করে। চীনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বর মাসে মহামারী যখন শুরু হয় প্রথম থেকেই ৩ হাজার  মেডিকেল কর্মী আক্রান্ত হয়ে পড়েন। পরে নতুন করে শুরু হওয়া করোনা মোকাবিলায় হুবেইয়ে পাঠানো ৪২,৬০০ স্বাস্থ্যকর্মীদের কেউ আর আক্রান্ত হননি। কারণ তারা যথাযথ প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। তারা জানেন, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষা দিতে হয়। এতেই অর্জিত হয় জিরো ইনফেকশন। জিয়াং বলেন, স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের অনেকেই জীবনে কখনো সুরক্ষা স্যুট দেখেননি। তাই প্রশিক্ষণ জরুরি। রোগীর সেবা দেওয়ার আগে নিজেকে সুরক্ষিত করে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ।একজন প্রশিক্ষিত মানুষ অন্যজনকেও সহায়তা দিতে পারেন।

 জিয়াং বলেছিলেন যে হাসপাতালের মধ্যে প্রত্যেকের নিজস্ব নির্দিষ্ট প্রোটোকল রয়েছে তাদের জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চল স্থাপন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কোভিড -১৯ রোগীদের চিকিত্সার জন্য বিচ্ছিন্নতা ওয়ার্ডগুলি সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়েছে তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি ও তার সহকর্মীরা উহানের প্রতিটি হাসপাতালে পরিদর্শন করেছেন।

তিনি বলেছিলেন, নির্ধারিত পরিচ্ছন্ন অঞ্চল, সম্ভাব্য দূষিত অঞ্চল এবং দূষিত অঞ্চলগুলির পাশাপাশি রোগীদের এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের পৃথক প্যাসেজগুলি, ওয়ার্ডগুলিতে রোগীদের ভর্তি করার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আগে সমস্ত কিছু আয়োজন থাকা দরকার। চিকিৎসাকর্মীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং হাত ধোওয়ার জন্য কঠোর নিয়মগুলি মেনে চলা প্রয়োজন।

জিয়াং বলেছিলেন  অস্থায়ী আশ্রয় হাসপাতালে,এক্সিবিশন সেন্টার কিংবা স্টেডিয়ামগুলোতে  একই প্রোটোকল এবং জোন বিচ্ছিন্ন অঞ্চল স্থাপন করা হয়েছিল।

সেফগার্ডগুলো এমনভাবে রাখতে হবে যাতে সংক্রমণ কোনভাবে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

‘প্রতিটি মেডিকেল টিমের কমপক্ষে একজন কর্মী সদস্য ছিলেন যারা হাসপাতালের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। কিছু দল সংক্রমণের ভয়ে তিন-চার জোড়া গ্লাভস পরতেন। প্রতিরক্ষাব্যবস্থা  বেশি হওয়া ভাল’, জিয়াং বলেছিলেন।

চলবে—–

সম্পাদনায় : আবির হাসান