Real Time True News

ওরা পারে….. আমরা কেন নয়

।। সৈয়দ গোলাম নবী।।

কাজের অর্ডার না থাকার অজুহাতে বাংলাদেশে পোশাক কারখানা লে অফ ঘোষণা করতে যাচ্ছে। অথচ চীনের পোশাক কারখানাগুলো ছাড়াও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনকারীরাও কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায়  ব্যবহৃত সরঞ্জাম উৎপাদনে ব্যস্ত।আগামী মে মাস পর্যন্ত নতুন কাজের অর্ডার নেবার ফুসরত নেই তাদের।

চীনের বহুল প্রচারিত সরকারি সংবাদপত্র সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চীনে মাস্ক, পিপিই(Personal Protective equipment-PPE)এবং মেডিকেল সামগ্রি তৈরির জন্য প্রায় ২মাসে ৩৮ হাজার কোম্পানী তালিকাভুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন মেডিকেল সামগ্রি রপ্তানী করার অনুমোদন দেয়।থাই,দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম কর্তৃপক্ষ এ সব সামগ্রি রপ্তানীর অনুমোদন দেয় না।

খবরে বলা হয়, চীনে গাড়ির যন্ত্রাংশ, গলফ বল,কলম,শিশুদের খেলনা প্রস্তুতকারক কোম্পানীগুলোও এখন মাস্ক তৈরি করছে দিবারাত্র।

আবার খাবারের বক্স বা লাঞ্চের প্যাকেট সরবরাহকারী ফোশন হোসং প্যাক মেশিনারি কোম্পানী জানুয়ারি মাসেই চীনসহ বিশ্বব্যাপী মাস্কের চাহিদার প্রেক্ষিতে মাস্ক তৈরির মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি উৎপাদন শুরু করে। ২মাসের মধ্যে কোম্পানিটি একটি মাত্র লাইন থেকে ৫০টি ফুল অটোমেটিক প্রডাকশান লাইনে বিস্তৃতি পেয়েছে। কোম্পানিটি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী করছে।

কোম্পানিটির পরিচালক ঝু হিউকিং  বলেন,তাদের পক্ষে এখন নতুন অর্ডার নেয়া সম্ভব না। কারণ আগামী ৩০ মে পর্যন্ত তাদের বিস্তর অর্ডার রয়েছে।

তিনি জানান, মার্চ মাসেই তার কোম্পানী কয়েক মিলিয়ন মার্ন ডলারের অর্ডার নিতে নিতে পারে নি।কোম্পানীর লয়ার হারিস ব্রিকেন বলেন,তারা প্রতিদিন ৪০টিরও বেশি ইমেইল পাচ্ছেন যেখানে মাস্ক তৈরিকারক কোম্পানী, রপ্তানী সম্পর্ তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবাদপত্রের খবর, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের মধ্যে চট্টগ্রামের দুটি ইপিজেডের ৬৯টি কারখানা ‘লে অফ’ ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে। কার্যাদেশ না থাকা, শিপমেন্ট না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে চট্টগ্রাম ইপিজেডের ৪৬টি এবং কর্ণফুলী ইপিজেডের ২৩টি দেশি-বিদেশি কারখানা কর্তৃপক্ষগুলো লে-অফের জন্য বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ ( ইপিজেড) কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে।

বাংলাদেশ বিশ্বের নামীদামী সব ব্রান্ডের পোশাক, জুতা,তাবু বহুকাল ধরে প্রডাকশন করে আসছে।বিশ্বব্যাপী সুনামের কারণে পোশাক রপ্তানীখাতে দেশের আয়ও সবচেয়ে বেশি।
জানা যায়, করোনাভাইরাস যখন চীনের পর ইউরোপে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তখন এদেশের অনেক কারখানা মাস্ক প্রস্তুত করে বিদেশেও রপ্তানী করেছে।ঢাকার আশপাশের অনেক ছোট বড় প্রতিষ্ঠান দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার মিটিয়ে বিদেশেও এয়ারশিপমেন্ট দিয়েছে।

পত্রিকান্তরে খবরে প্রকাশ, এদেশের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ না করে লকডাউনের অজুহাতে রাজধানী,সাভার ও গাজীপুরের অসংখ্য কারখানায় তালা ঝুলিয়েছে।

অভিজ্ঞমহলের মতে, বাংলাদেশের অনেক কারখানা চাইলে বিকল্প পণ্য চীনাদের আদলে মাস্ক, পিপিই এবং হ্যান্ড গ্লাভস তৈরি করতে পারে। যেহেতু বিশ্বব্যাপী এ সব সামগ্রির ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস এবং শাহজালাল বিমান বন্দরের রপ্তানী শাখার সূত্র গুলো জানায়,গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও কার্গো বিমানে এদেশ থেকে বিপুল মাস্ক ও মেডিকেল সামগ্রি রপ্তানী হয়েছে ইউরোপের দেশগুলোতে।