Real Time True News

চট্টগ্রাম বন্দরে অ্যালার্ট ফোর জারি

বিএনএ,চট্টগ্রাম: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে আগের ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের পরিবর্তে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সুপার সাইক্লোনের আশংকার মুখে চট্টগ্রাম বন্দরে জারি হওয়া বিশেষ সতর্কতা অ্যালার্ট-থ্রি পরিবর্তে অ্যালার্ট ফোর জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে স্ট্যান্ডবাই থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে আবহাওয়া অফিস ৯ বিপদ সংকেট দেখিয়ে যেতে বলার পর বন্দরের অ্যালার্ট বৃদ্ধি করে ফোর এ নিয়ে আসা হয়েছে। নিন্ম এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার কাজও করছে বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, আবহাওয়া অফিস থেকে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর অ্যালার্ট-ফোর জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে স্ট্যান্ডবাই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মেডিকেল টিম ও উদ্ধার টিম গঠন করা হয়েছে । তিনটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রয়েছে। ফোন নম্বরগুলো হলো-  নৌ বিভাগ (০৩১ ৭২৬৯১৬), পরিবহন বিভাগ (০৩১ ২৫১৭৭১১) ও সচিব বিভাগ (০১৭৫১ ৭১৩০৩৭)।

১৯৯২ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রণীত ঘূর্ণিঝড়-দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং ঘূর্ণিঝড়–পরবর্তী পুনর্বাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেত অনুযায়ী চার ধরনের সতর্কতা জারি করে বন্দর। আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর সংকেত জারি করলে বন্দর প্রথম পর্যায়ের সতর্কতা বা ‘অ্যালার্ট-১’ জারি করে। ৪ নম্বর সংকেতের জন্য বন্দর অ্যালার্ট-২ জারি এবং বিপৎসংকেত ৫, ৬ ও ৭ নম্বরের জন্য অ্যালার্ট-৩ জারি করা হয়। মহাবিপদ সংকেত ৮, ৯ ও ১০ হলে বন্দরেও সর্বোচ্চ সতর্কতা বা অ্যালার্ট-৪ জারি করা হয়।

এর আগে সোমবার (১৮ মে) বিকেল ৪টায় ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের পর অ্যালার্ট ৩ জারি করে চট্টগ্রাম বন্দর। অ্যালাট ৩ জারির সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের জেটি থেকে ১৯টি, বহির্নোঙর থেকে ৫১টি জাহাজ গভীর সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেনও বুম আপ করা হয়। নদীর কাছাকাছি রাখা কনটেইনারগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলা হয়। বন্দর চ্যানেলে অবস্থানরত অভ্যন্তরীণ জাহাজ ও ছোট ছোট নৌযান বাংলাবাজার থেকে শাহ আমানত সেতুর উজানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব টাগ ও নৌযানগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। আর বড় জাহাজ কুতুবদিয়া মাতারবাড়ি সরে নেওয়া হয়েছে।

বিএনএ/মনির, এসজিএন