Real Time True News

আম্পানের তাণ্ডবে ৮ জনের মৃত্যু

বিএনএ,ঢাকা:ঘুর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত  ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ভোলায় রামদাসপুর চ্যানেল ৩০ যাত্রীসহ একটি ট্রলার ডুবে একজন ও চরফ্যাশনের শশীভূষণ এলাকায় গাছচাপা পড়ে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। পটুয়াখালীতে শিশুসহ দুজন, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুরেও নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। যশোরে গাছ চাপা পড়ে মা ও মেয়ে এবং চট্টগ্রামের  স্বন্দীপে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বয়স্ক ভাতা নিতে যাওয়ার সময় দক্ষিণ আইচা এলাকায় ছিদ্দিক ফকির(৭০) নামে এক ব্যক্তির ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়।

বরিশালের আলতুমিয়ার ঘাট এলাকায় মেঘনায় ট্রলার ডুবে বোরহানউদ্দিন উপজেলার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পটুয়াখালীর গলাচিপায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় গাছের ডাল ভেঙে চাপা পড়ে মারা গেছে রাশেদ নামের পাঁচ বছরের এক শিশু।

কলাপাড়ায় প্রচার চালাতে গিয়ে খালে পড়ে নিখোঁজ হন ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির ৬ নম্বর ইউনিট টিম লিডার সৈয়দ শাহ আলম। পরে তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।  গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় মারা গেছে ৫ বছরের শিশু রাশেদ।

সাতক্ষীরার কামালনগরে আম কুড়াতে গিয়ে গাছ চাপায় এক নারী ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া দেয়াল চাপায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। যশোরের চৌগাছা উপজেলার চানপুর গ্রামে ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরের ওপর গাছ পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ওই গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী খ্যান্ত বেগম(৪৫) ও তার মেয়ে রাবেয়া (১৩)।এছাড়া চট্টগ্রামে স্বন্দীপে জলোচ্ছ্বাসে ভেসে এক যু্বকের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, কিছুটা দুর্বল হয়ে, বাংলাদেশের পূর্ব-দক্ষিণে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। তবে এবারও ত্রাতা সুন্দরবন।বুধবার বিকেল ৪টায় ওই গতিবেগ কিছুটা কমে সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার বেগে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে । যার পরিধি ছিল ১শ থেকে দেড়শ কিলোমিটারের মধ্যে।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রথম ঝাপটা সন্ধ্যার পরপরই অতিক্রম করে বাংলাদেশের সীমা। যদিও পুরোপুরি যেতে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা সময় লাগে। সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি আর ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলচ্ছাসে দেশের অনেক জায়াগায় বাঁধ ভেঙ্গে গেছে ।

প্লাবিত হয়েছে সাতক্ষীরা, বাগেরহাটের শরণখোলা,পটুয়াখালীর কলাপড়া,নোয়াখালী হাতিয়াসহ অনেকে এলাকার নিন্মাঞ্চল। জলচ্ছাসের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বরগুনা শহর।

তবে,সুন্দরবন ঢাল হয়ে দাঁড়ানোয় উপকূলীয় জনপদে জীবন ও সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়েছে, বিধ্বস্ত হয়েছে বসত ঘর। ভেঙে পড়েছে অনেক বাঁধ। গাছপালা উপড়ে পড়ে অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এক ঘণ্টার মধ্যেই উপকূলীয় এলাকার ৫১ লাখের মতো গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিধ্বস্ত হয়েছে নিঝুম দ্বীপ, চরঈশ্বর, নলচিরা, সুখচর ও চরকিং ইউনিয়নের শতাধিক কাঁচা ঘর। এছাড়া নিঝুমদ্বীপ, কেরিংচর, নলেরচর, বয়ারচর ও ঢাল চরের নিচু এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার অধিকাংশ লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সিপিপির কর্মীরা।

অন্যদিকে, ঝড় আর বৃষ্টির তাণ্ডবে ফসল-মাছের ঘেরসহ কৃষিপণ্যের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপনে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আর করিম চৌধুরী