Real Time True News

গণমুখী বাজেট ও স্বাস্থ্য খাতে অপর্যাপ্ত বরাদ্দ

।। মিজানুর রহমান মজুমদার।।

করোনাভাইরাস যখন পুরো দেশকে গ্রাস করতে তৎপর রয়েছে, সে সময়ে পেশ করা হয়েছে ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট। অনেকেরই ধারণা ছিল এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাত অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে। কিন্তু বাজেটে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবনায় ছিল না কোন চমক। স্বাস্থ্য খাতে এই অর্থ বছরের প্রস্তাবিত মোট বাজেটের ৭.২ শতাংশ অর্থাৎ ২৯ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ স্বাস্থ্য খাতে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত অর্থ বছরের তুলনায় তিন হাজার কোটি টাকার মতো বেশি।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছর স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু দুর্নীতির কেলেঙ্কারি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। গত বছরের দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল। এতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে ১১ টি উৎস থেকে দুর্নীতি হয়, যার মধ্যে রয়েছে, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, ঔষধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পণ্য কেনাকাটা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তফা কামাল পেশ করা বাজেটে মোট ব্যয় ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। মোট আয় ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা এবং ঘাটতি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯ শত ৯৭ কোটি টাকা।

সংসদে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, “কোভিড-১৯-এর প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে যে জরুরি এবং অপ্রত্যাশিত আর্থিক প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তা মেটাতে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের কৌশল বিবেচনায় নিয়ে মূলত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।”

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিবারের মতো এবারের বাজেটে ঘাটতি থাকলেও বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। যা অর্থনীতি ও জীবন জীবিকার দিক থেকে ২০২০-২১ সালের বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব এবং জনহিতকর বলা যায়। বাজেটে করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৯৫ হাজার ৪শত ৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এটি ইতিবাচক হলেও পর্যাপ্ত নয়।

১৯৭২ সালের সংবিধানে জনগণের যে ৫টি মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে, এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিকার অন্যতম। কিন্তু কালের পরিক্রমায় প্রতিটি সরকার স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ কখনো দেয়নি! এটিকে আনা হয়নি জবাবদিহিতার আওতায়। ১৯৮২ সালে জাতীয় ওষুধ   নীতিকে কার্যকর করতে দেয়নি স্বার্থান্বেষী মহল।
যুগ যুগ ধরে এলিট শ্রেণি তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পাড়ি দিয়েছে বিদেশে।চিকিৎসা সেবা নিয়েছে নামী-দামী হাসপাতালে। ফলে দেশের স্বাস্থ্যের প্রতি কেউ তেমন নজর দেয়নি। জনগণের মৌলিক অধিকারের এ খাতটি ছিল অবহেলিত। দেশের হাসপাতালগুলো পরিণত হয়েছে গরীব-দু:স্থদের চিকিৎসা কেন্দ্রে।

করোনাভাইরাসের আক্রমণের সময়কালে। আকাশপথ লকডাউন ও বিদেশি হাসপাতালগুলোতে রোগী গ্রহণ বন্ধ থাকায় এলিট শ্রেণিও কথিত সেই দু:স্থ ও গরীবের হাসপাতালে ভিড় করছে। সেখানেতো আগে থেকে চিকিৎসা সেবার সরঞ্জাম ছিল না। বিশেষ করে আইসিইউ ইউনিট। হঠাৎ করে তৃতীয় শ্রেণির হাসপাতাল গুলো হয়ে ওঠেছে শেষ আশ্রয় ও ভরসাস্থল। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। অনেক শিল্পপতি ও তাদের স্বজনরা একটি আইসিইউ পাওয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে  হাসপাতাল ঘুরে সেই কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিণ আইসিইউ বেডে স্থান পায়নি। স্থান পেয়েছে, কবরস্থানে!

উন্নত দেশগুলো অন্য দেশ-জাতি-গোষ্ঠিকে ঘায়েল করার জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার মারণাস্ত্র খাতে খরচ, অন্য দেশকে কবরস্থান কিংবা শ্মশানে পরিণত করেছে। অথচ নিজেদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল ও আইসিইউ তৈরি করেনি। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ রাখেনি। উৎসাহিত করা হয়নি স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের গবেষণা কর্মে। মহামারি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা কল্পনায় আনেনি। ফলে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানির মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে ‘সেইফটি ফাস্ট’ । নিজেকে আগে রক্ষা কর।

করোনা ভাইরাস আমাদের অন্তত: এ শিক্ষা দিয়েছে যে, দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে হলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গতানুগতিক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।  জেলা- উপজেলার হাসপাতালগুলোতে পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো ও সুরক্ষা সামগ্রী দিয়ে সাজাতে হবে। নিয়োগ দিতে হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স। ব্যবস্থা রাখতে হবে আবাসনের।

সরকার বেতন স্কেল বৃদ্ধি করায় সদ্য এমবিবিএস পাশ করা ডাক্তারদের বড় একটি অংশ বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে জেলা- উপজেলায় চাকুরিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেছে। প্রয়োজনে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে এ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রীদের চিকিৎসা তার নিজের জেলা সদর হাসপাতালে, এমপিদের চিকিৎসা তার নির্বাচনী এলাকা এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আমলাদের চিকিৎসা সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে এমন প্রজ্ঞাপন জারি বাধ্যমূলক করা হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্রই পাল্টে যাবে।

চিকিৎসা ব্যবস্থাকে তৃণমূলের মানুষের নিকট পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম এর ‘ফেনী মডেল’ অনুসরণ করলে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্বজনদের নামী-দামী হাসপাতালে গিয়ে অনুনয়-মিনতি করতে হবে না।

উল্লেখ, গত ৫ মে ২০২০ ফেনীর ডায়াবেটিস হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে ২টি আইসিইউ বেড স্থাপন করা হয়েছে। আরো তিনটি আইসিইউ স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া তিনি ফেনীর হাসপাতালে দিয়েছেন বিভিন্ন হাই ফ্লো অক্সিজেন কেনুলা। এর অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান সালেহ উদ্দিন-হোসনে আরা চৌধুরী ফাউন্ডেশন ও ফেনী ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। শিল্পপতি ব্যবসায়ি না হয়েও তিনি পথ দেখিয়েছেন। আলাউদ্দিন নাসিমের মতো দেশের শিল্পপতিরা এগিয়ে আসলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা সদর হাসপতালগুলোতে আইসিইউ ইউনিট স্থাপন সম্ভব।

প্রসঙ্গত: চীনের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর গুয়াংজু থেকে ঢাকায় কার্গো বিমান আসতে সময় লাগে মাত্র ৪ ঘন্টা। আমাদের দেশের হাজার হাজার শিল্পপতি রয়েছে যারা চাইলে বিনা শুল্কে একদিনই আনতে পারে শত আইসিইউ ইউনিট। অথচ নিজে ও স্বজনরা আর্তনাদ- আহাজারি করতে করতে মুহুর্তে মৃত্যু বরণ করছে। আর এ দৃশ্য দেখছেন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক ব্যবসায়ি শিল্পপতিরা!

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং একই সাথে বর্তমান করোনা সংকটে বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করার জন্য প্রস্তাবিত বাজেট কৃষি খাতে ২৯ হাজার ৯শত ৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা ইতিবাচক। এতে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিবে না।

পাওয়ার রিপার, পাওয়ার টিলার, রোটারী টিলার ইত্যাদি যন্ত্রপাতি আমদানিতে মূসক অব্যাহতি প্রশংসনীয়। এ খাতের প্রধান উপকরণ সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি আমদানিতে শুন্য শুল্ক হার অব্যাহত রাখা এবং রেয়াতি শুল্ক হারে কৃষি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি সুবিধা সম্প্রসারণ বর্তমান পরিস্থিতি এ খাতের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পাশাপাশি দেশিয় পেঁয়াজ চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমদানির উপর শুল্কারোপ চাষিদের উৎসাহিত করবে। আশা করি আবারো কৃষি খাত ঘুরে দাঁড়াবে।

এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি ইত্যাদি সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫শতাংশ থেকে কমিয়ে ২শতাংশ নির্ধারণ, রসুন ও চিনি আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর ৫শতাংশ থেকে কমিয়ে ২শতাংশ নির্ধারণ, পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে হাঁস, মুরগির খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫শতাংশ থেকে হ্রাস করে ২শতাংশ নির্ধারণ করায় এসব পণ্যের মূল্য হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

স্বাস্থ্য কর্মীদের সুরক্ষার জন্য দেশে উৎপাদিত পিপিই, মাস্ক ইত্যাদি উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি এবং পিপিই, মাস্ক, স্যানিটাইজার ইত্যাদি পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির উপর সমুদয় শুল্ককর মওকুফ করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় দুটি জরুরি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। একটি বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এক হাজার ১২৭ কোটি টাকার। অন্যটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দেয়া এক হাজার ৩৬৬ কোটি টাকার।
এছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে যা এই ভাইরাস মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা, দেশে তৈরিকৃত পেরেক, স্ক্রু, ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ইত্যাদিকে সুরক্ষা দিতে আমদানি শুল্ক আরোপে দেশে হালকা প্রকৌশল শিল্পের সম্প্রসারণ হবে। রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পে বিভিন্ন পণ্য ও পাদুকা শিল্পের ৩টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান এসব খাতের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সমুদ্রবন্দর সমূহের পণ্য হ্যান্ডলিং এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন কন্টেইনার টার্মিনাল, ওভারফ্লো ইয়ার্ড, বে-টার্মিনাল ও বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সহায়তা করবে। স্থানীয় উৎপাদনমূখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪শতাংশ করা, রেয়াতের সময়সীমা ২ কর মেয়াদ থেকে বৃদ্ধি করে ৪ মেয়াদ করায় দেশিয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

মানবসম্পদ উন্নয়নে হাইটেক কর্তৃপক্ষের অধীনে ২০২৩ সালের মধ্যে ৪০ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ প্রদান কর্মসূচীর আওতায় ইতোমধ্যে ১৮ হাজারের অধিক জনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ও সেবা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ইত্যাদি খাতে দরিদ্র কৃষক, বিদেশ ফেরত প্রবাসী শ্রমিক এবং প্রশিক্ষিত বেকারদের আত্মকর্মসংস্থানে স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ করা হবে যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে আয়কর থেকে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা, মূসক থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং শুল্ক থেকে ৯৫ হাজার ২০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি, সর্বনিম্ন কর হ্রাস করে ৫শতাংশ নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ করহার ৩০শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫শতাংশ নির্ধারণ করায় করদাতাদের উৎসাহিত করবে।করোনা মহামারীর কারণে রিটার্ণ দাখিলে ব্যর্থ করদাতাদের জরিমানা ও সুদ ব্যতীত সময়সীমা বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

আগামী ১ জুলাই ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের আয়কর রিটার্ণে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও এপার্টমেন্ট এর উপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড, সিকিউরিটিজ এবং পুঁজি বাজারে বিনিয়োগের উপর ১০শতাংশ কর প্রদান করে বৈধ করার সুযোগ বিদেশে টাকা পাচারের প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করবে। সহায়ক হবে অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত হয়ে তারল্য সংকট নিরসনে । যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, তাদের কালো টাকাকে এ প্রক্রিয়ায় দেশে নিয়ে আসার জন্য ব্যবস্থা নিলে বৈশ্বিক মহামারিতে যে অর্থনীতির গতি যে হোঁচট খেয়েছে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেত।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ৫০ লাখ মানুষকে নগদ অর্থ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ১০০টি উপজেলায় সকল দরিদ্র, দুস্থ, প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হবে এবং ৫ লাখ নতুন উপকারভোগীর জন্য ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করা হবে। প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৮ লাখে উন্নীত করা হবে এবং এ বাবদ ২২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হবে। এসব কর্মসূচি দেশের অতি দরিদ্র মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সহায়ক হবে।

তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতিমুক্ত, জনসেবা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারলেই প্রস্তাবিত বাজেটের সুফল পাবে জনগণ। সেক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে বাজেট হয়ে ওঠবে গণমুখী ও জনবান্ধব।