Real Time True News

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১৬৯

আবদুর রউফ, ফজলুল হক ও আমাকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হল।

আজ প্রকাশিত হলো পর্ব : ১৬৯

১৯৫০ সালের শেষের দিকে মামলার শুনানি শেষ হল। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব যে রায় দিলেন, তাতে মওলানা সাহেব ও শামসুল হক সাহেবকে ‍মুক্তি দিলেন। আবদুর রউফ, ফজলুল হক ও আমাকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হল। শাস্তি দিলেই বা কি আর না দিলেই বা কি? আমি তো নিরাপত্তা বন্দি আছিই। মওলানা সাহেবও জেলে ফিরে এলেন, কারণ তিনিও নিরাপত্তা বন্দি। আতাউর রহমান সাহেব, কামরুদ্দিন সাহেব ও আরও অনেকে মামলায় আমাদের পক্ষে ছিলেন। আমাকে ডিভিশন দেওয়া  হয়েছিল।

আপিল দায়ের করলেও আমাকে খাটতে হল। কিছুদিন পরে আমাকে গোপালগঞ্জ পাঠিয়ে দিল, কারণ গোপালগঞ্জে আরও একটা মামলা দায়ের করছিল। মওলানা সাহেবের কাছে এতদিন থাকলাম। তাঁকে ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হল। কিন্তু উপায় নাই, যেতে হবে। আমি সাজাও ভোগ করছি এবং নিরাপত্তা বন্দিও আছি। ঢাকা জেলে আমাকে সুতা কাটতে দিয়েছিল। আমি যা পারতাম তাই করতাম। আমার খুব ভাল লাগত। বসে বসে খেতে খেতে শরীর ও মন দুইটাই খারাপ হয়ে পড়ছিল।

আমাকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে খুলনা মেলে নিয়ে চলল। খুলনা মেল বরিশাল হয়ে যায়। বরিশালে আমার বোন ও অনেক আত্মীয় আছে। বেশি সময় জাহাজ বরিশালে থামে না, আর কাউকে পেলামও না। একজন রিকশাওয়ালাকে বলেছিলাম, আমার এক খালাতো ভাই, জাহাঙ্গীরকে খবর দিতে। জাহাঙ্গীরকে সকলে চিনে। জাহাজ ছাড়ার সময় দেখি ছুটে আসছে সাইকেল নিয়ে। সিঁড়ি টেনে দিয়েছে। দাঁড়িয়েই দুই মিনিট আলাপ করলাম। ও বলল, এই মাত্র খবর পেয়েছে। জাহাজ ছেড়ে দিল। আমার বাড়ির স্টেশন হয়েই যেতে হয়। আমার বাড়ি থেকে তিন স্টেশন পরেই গোপালগঞ্জ অনেক রাতে পৌঁছে।

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : মনির ফয়সাল

আগের পর্ব পড়ুন : বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১৬৮