Real Time True News

সিরাজগঞ্জে বৃদ্ধি পাচ্ছে যমুনার পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বিএনএ,সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে যমুনার পানি। গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে রোববার(২৮ জুন) সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর,বেলকুচি,কাজিপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। যমুনার পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি করতোয়া ও বড়ালসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বেড়েই চলেছে।

যমুনা অধ্যুষিত জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার প্রায় ৩০ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অন্তত ২৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।পানি বাড়ায় এসব উপজেলার চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যাচ্ছে।নষ্ট হয়ে গেছে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির আখ, পাট, তিল, বাদাম, সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এছাড়া চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন।

এদিকে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের গুনেগাঁতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুরাতন বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে যমুনার পানি প্রবেশ করায় গুনেগাঁতি গ্রাম ও সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল রাণী গ্রামের ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘরে পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ।

পৌরসভার রাণীগ্রামে যুমনা নদীর পানি প্রবেশ করায় এই এলাকার লোকজন নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় চলাচল করছে। বানভাসি মানুষজন পরিবার পরিজন, গৃহস্থালি জিনিষপত্র ও গবাদি পশু নিয়ে সরকারী স্কুলে আশ্রয় নিচ্ছে, অনেকেই অন্যত্র নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে।

গুণেরগাঁতি ও রাণীগ্রামের লোকজন জানিয়েছেন, বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রতিবছরই যমুনার পানি ঢুকে পড়ায় তাদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গুণেরগাঁতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুরাতন ভাঙা  বাঁধ সংস্কার করে বন্যার পানির দুর্ভোগ থেকে রেহাই দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী লোকজন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের গুণেরগাঁতি থেকে ভাটিয়ারী পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুরাতন বাঁধটি বহু আগেই ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গুণেরগাঁতি ও রাণীগ্রামের কিছু  অংশ ভেঙে যাওয়া পুরাতন বাঁধ ও নতুন বাঁধের মাঝখানে পড়ে যায়। ঐ এলাকার লোকজন অন্যত্র চলে না যাওয়ায় বন্যার সময় তাদেরকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যমুনা নদী খনন করে ঐ এলাকায় ক্রসবাঁধ নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

ফেরদৌস রবিন,আর করিম চৌধুরী