Real Time True News

করোনা সংক্রমণ : কোন বিভাগে কত

বিএনএ ডেস্ক : করোনা সংক্রমণে বিশ্বে প্রাণহানির সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার(২৯ জুন) সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় এই সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ দুই হাজার ৩৮৭ জন। আর বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের সংখ্যা এক কোটি পৌনে ২ লাখ। করোনায় মোট মৃত্যু ৪ লাখ ছাড়ায় ৫ জুন। সেই হিসাবে করোনা শেষ এক লাখ প্রাণ নিয়েছে ২৪ দিনে।

করোনায় প্রাণহানির দিক দিয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এ পর্যন্ত এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি মারা গেছেন। ৫৭ হাজারের বেশি প্রাণহানির নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। তৃতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্য। সেখানে ৪৩ হাজারের বেশি মারা গেছেন। প্রায় ৩৫ হাজার প্রাণহানি নিয়ে এরপরই আছে ইউরোপের আরেক দেশ ইতালি। এছাড়া ক্রমান্বয়ে থাকা অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স (২৯,৭৮১), স্পেন (২৮,৩৪৩), মেক্সিকো (২৬,৬৪৮), ভারত (১৬,৪৭৫), ও ইরান (১০, ৫০৮ জন)।

করোনা রোগী শনাক্তের দিক দিয়েও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এ পর্যন্ত সাড়ে ২৫ লাখ করোনারোগী শনাক্ত হয়েছে। ব্রাজিলে এই সংখ্যা সাড়ে ১৩ লাখ। শনাক্তের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে রাশিয়া (সাড়ে ৬ লাখ)। তবে রাশিয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা ৯ হাজারের কিছু বেশি। চতুর্থ স্থানে আছে ভারত (সাড়ে ৫ লাখ)। যুক্তরাজ্যে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা অন্তত তিন লাখ ১৩ হাজার জন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার পর্যন্ত ১ হাজার ৭৮৩ জন মারা গেছেন। আর শনাক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। বিশ্বে সুস্থ হওয়ার এই সংখ্যা ৫১ লাখ ৬০ হাজারের মতো।

৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সরকার দীর্ঘ সময় সাধারণ ছুটি দিলেও কিছু মানুষের অসচেতনতা, অবহেলা, অজ্ঞতা ও  স্বাস্থ্য বিধি মানার প্রতি গুরুত্ব না দেয়ার কারণে মূলত সংক্রমণ বাড়ছে ও বেড়েছে।

মানব শরীরের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা করোনা ভাইরাস (ইম্পোরটেড কেইস)সংক্রমণের চার মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনও বাজার ও মার্কেটগুলোতে ব্যাপক জনসমাগম পরিলক্ষিত হচ্ছে।যত্রতত্র মানুষ ফেলছে জীবাণুযুক্ত থুতু ,কফ, ব্যবহৃত হ্যান্ডগ্লাভস। যেখান থেকে ভাইরাস সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে সোমবার (২৯জুন) বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৪৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ৭৮৩ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৪ হাজার ১৪ জন। এটিই একদিনে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ শনাক্ত। দেশে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫৩ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হলেন ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। দুপুরে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৬৮টি ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে কারিগরি সমস্যার কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫টি ল্যাবের ফলাফল পাওয়া গেছে। এই ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৪১৩টি, তবে আগের নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৮৩৭টি। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো সাত লাখ ৪৮ হাজার ৪৩টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন চার হাজার ১৪ জন।

এদিকে,গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৬ শতাংশ।

মৃত ৪৫ জনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২১-৩০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন এবং ৭১-৮০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৮১-৯০ বছরের মধ্যে ১ জন এবং ৯১-১০০ বছরের মধ্যে ১ জন।

এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে, ঢাকা বিভাগে ২২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন, সিলেট বিভাগে ৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিএনএ প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা জানান:

ঢাকা : ঢাকা বিভাগে সর্বশেষ করোনায় আক্রান্তের মধ্যে ঢাকায় ২৮৫৬, ঢাকা জেলার মধ্যে গাজীপুরে ৩২৭০, টাংঙ্গাইলে ৫২৮, নারায়ণগঞ্জে ৫০২১,মানিকগঞ্জে ৫৬৮, মুন্সীগঞ্জে ১৯৪৪ নরসিংদীতে ১২৮০,কিশোরগঞ্জে ১০৮৩, মাদারীপুরে ৬৬৬,  রাজবাড়িতে ৩৮৯, ফরিদপুরে ১৮২৭, শরীয়তপুরে ৪৭২ এবং গোপালগঞ্জে ৬০৯ জন।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৪ জন নগর ও ৭২ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট আক্রান্ত ৮০৩৫ জন। সোমবার সকালে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। এছাড়া, গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় চট্টগ্রাম উপজেলা পর্যায়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিআইটিআইডিতে ১৪ জন, সিভাসুতে ২৬ জন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৫৬ জন, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ২৪ জন, শেভরণ ল্যাবে ১৭৭ জন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

রোববার চট্টগ্রামে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৯৯৭ টি। এর মধ্যে ১০১ টি বিআইটিআইডিতে, ১৪৪ টি সিভাসুতে, ১১২ টি চমেকে, ১৬৭ টি চবিতে, ১১০ টি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাব, ৩৫২ টি শেভরণ ল্যাবে এবং ১১ টি মেডিকেল কলেজ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করানো হয়।

উপজেলা পর্যায়ে নতুন শনাক্ত ৭২ জনের মধ্যে লোহাগাড়ার ১, সাতকানিয়ার ৫, বাঁশখালীর ৩, আনোয়ারার ৭, চন্দনাইশের ৪, পটিয়ার ৫, বোয়ালখালীর ১, রাঙ্গুনিয়ার ১, ফটিকছড়িতে ১৩, হাটহাজারীতে ১৯, মিরসরাইয়ের ৩ ও সীতাকুণ্ডের ১০ জন আছেন।উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে করোনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৭১ জন। সুস্থ হয়েছেন মোট ৯৬৫ জন।

সিলেট : সিলেট বিভাগে আরও ১৪০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রোববার(২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে সোমবার(২৯ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়।আক্রান্ত ব্যক্তিরা সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে বিভাগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪ হাজার ২৯০ জন। বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮২ জন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুর রহমান।

নতুন করে সংক্রমিত লোকজনের মধ্যে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে সিলেটের ৯৮ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এদিকে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে সুনামগঞ্জের ২১ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ঢাকার পরীক্ষাগার থেকে হবিগঞ্জ জেলার ১৬ জনের এবং মৌলভীবাজার জেলার ৫ জনের কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

জানা গেছে, বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৪৮ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ৫৭ জন, সুস্থ হয়েছেন ৩৯৩ জন। সুনামগঞ্জ জেলায় আক্রান্ত ৯৭২ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩৯৩ জন এবং মারা গেছেন ৬ জন। হবিগঞ্জ জেলায় আক্রান্ত ৫৫৪ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৯১ জন এবং মারা গেছেন ৬ জন। মৌলভীবাজার জেলায় আক্রান্ত ৪১৯ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮৬ জন এবং মারা গেছেন ৪ জন।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৪২ জন। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৭৭ জন করোনায় আক্রান্তের বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ৭১০ জন। সুস্থতার হার ৪০ শতাংশ। সোমবার নতুন করে ময়মনসিংহ সদরে ২৩ জন, নান্দাইলে ৯ জন, ত্রিশাল ও গফরগাঁও উপজেলায় ৪ জন করে এবং মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়ায় ১ জন করে করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুস্থ করে তোলার লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন এ বি এম মসিউল আলম। তিনি জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭ জন বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৬২ জন হোম আইসোলেশনে এবং ৭৫ জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রয়েছেন।

জেলায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী সদর উপজেলায়। এই উপজেলায় ১ হাজার ২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা জেলার মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশ। আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। সদর বাদে বাকি ১২টি উপজেলা মিলিয়ে ৭৫২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় করোনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা: খুলনা বিভাগে করোনা রোগীর সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মোট শনাক্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ২১৬ জনের। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৯ জন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মনজুরুল মুরশিদ।

বিভাগে নতুন সংক্রমিত ২১৬ জনের মধ্যে খুলনা জেলার ১০২ জন, বাগেরহাটের ৭ জন, সাতক্ষীরার ৯ জন, যশোরের ৩৯ জন, মাগুরার ১১ জন, নড়াইলের ১২ জন ও কুষ্টিয়ার ৩৬ জন। সব মিলিয়ে বিভাগের মধ্যে খুলনায় এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছেন ১ হাজার ৭৮৬ জন, বাগেরহাটে ১৯৪ জন, সাতক্ষীরায় ১৮৩ জন, যশোরে ৫৬১ জন, ঝিনাইদহে ১৮৫ জন, মাগুরায় ১৩০ জন, নড়াইলে ১৭৮ জন, কুষ্টিয়ায় ৫৭৭ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২১২ জন ও মেহেরপুরে ৭০ জন।

জানা গেছে, ২০ জুন থেকে এই ১০ দিনে ২ হাজার ১৫১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যা মোট রোগীর ৫৩ শতাংশ। এই ১০ দিনে মারা গেছেন ৩৩ জন, যা মারা যাওয়া মোট রোগীর প্রায় ৫৬ শতাংশ।

বরিশাল : বরিশাল জেলায় নতুন করে ৩৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত হওয়া ৩৭ জনসহ এ জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪৫৯জন। রোববার এ জেলায় করেনায় আক্রান্ত ৬জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত এ জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ২৭৩ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী। এ পর্যন্ত এ জেলায় করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২২জন রোগী।

রাজশাহী : সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে আরও ২৬৮ জনের করোনা রোগী সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৫৮। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৭৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৫ জন। দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য।

গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তের মধ্যে রাজশাহীর ৫৯ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২, নওগাঁর ৬৭, জয়পুরহাটের ৪২, বগুড়ার ৬৯, সিরাজগঞ্জের ১৪ ও পাবনার ১৬ জন রয়েছেন। তবে বিভাগের অপর জেলা নাটোরে গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হননি।

গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য আরও জানান, রাজশাহী বিভাগে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ২৫৮ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বগুড়ায় ২ হাজার ৭৮২ জন, রাজশাহীতে ৫৭১, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০১, নওগাঁয় ৪৫১, নাটোরে ১৫৮, জয়পুরহাটে ৩৬৬, সিরাজগঞ্জে ৩৮৩ ও পাবনায় ৪৪৬ জন।

এ পর্যন্ত বিভাগের আট জেলার মধ্যে ছয় জেলায় মৃতের সংখ্যা ৭৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নওগাঁর একজন মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে ৭ জন, নওগাঁয় ৬, নাটোরে ১, বগুড়ায় ৪৮, সিরাজগঞ্জে ৩ ও পাবনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো করোনায় মারা যাননি।

গত ২৪ ঘণ্টায় আট জেলায় সুস্থ হয়েছেন ১১২ জন। এ নিয়ে বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৫ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ৬৮ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬১, নওগাঁর ২১৪, নাটোরের ৫৫, জয়পুরহাটের ১৩৭, বগুড়ার ৪৪৩, সিরাজগঞ্জের ১৮ ও পাবনার ৪৯ জন।

রংপুর: রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৩টি ওয়ার্ডে ১২ লাখ মানুষের বিপরীতে এখন পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার মানুষ করোনা পরীক্ষা করাতে পেরেছে। নগরীর কোন মার্কেট, শপিংমলে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না, নেই কোন সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা। নগরীর অধিকাংশ এলাকায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। জেলায় আক্রান্ত ৯৩৪ জনের মধ্যে প্রায় ৭০০ জনই সিটি করপোরেশন এলাকার।

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ জানান, নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি করোনা পজেটিভ রোগী রয়েছে যাদের সংখ্যা ১৩৫ জন। এছাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৩ জন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৯ জন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৩২ জন, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬ জন, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৬ জন, এবং ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৪ জন। তবে নগরীর আটটি ওয়ার্ডে আক্রান্ত রোগী নেই, আবার ৯টি ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা এক থেকে তিনজন।

উল্লেখ্য,গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগীশনাক্ত হন ৮ মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।২৫ মার্চ প্রথমবারের মতো রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায়, বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে।

জেবি,আরকেসি