Real Time True News

কোকেন পাচার মামলায় দশ জনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে চার্জশীট

বিএনএ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বন্দরে নয় হাজার কোটি টাকা মূল্যের কোকেন উদ্ধারের মামলায় ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে র‍্যাব-৭। সোমবার (২৯ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে এ অভিযোগপত্র দেন র‌্যাব-৭ এর তৎকালীন পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী। তিনি বর্তমানে র‌্যাব-২ এ কর্মরত।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- গোলাম মোস্তফা ওরফে সোহেল, নূর মোহাম্মদ, মো. মোস্তফা কামাল, মো. মেহেদী আলম, মো. আতিকুর রহমান, এ কে এম আজাদ, মো. সাইফুল ইসলাম, মোস্তাক আহাম্মদ খান, ফজলুর রহমান এবং মো. বকুল মিয়া। আসামিদের মধ্যে মূল আসামিসহ চারজন পলাতক ও একজন জামিনে আছেন। বাকিরা কারাগারে।

 

২০১৫ সালের ৭ জুন বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে এনসিটি ইয়ার্ডে অবৈধ উপায়ে এলসি ছাড়া আমদানি করা সূর্যমুখী তেলের আড়ালে কোকেন ভর্তি একটি কন্টেইনার জব্দ করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে ১০৭টি নীল রংয়ের প্লাস্টিকের ড্রাম উদ্ধার করা হয়। ল্যাবে ১০৭ টি ড্রামে থাকা সূর্যমুখী তেলের নমুনা পরীক্ষা করে দুটি ড্রামে মোট ৩৭০ লিটার তরল কোকেন (মাদক) শনাক্ত হয়। পরে ওই বছরের ২৭ জুন আদালতের নির্দেশে বন্দর থানায় একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়।

প্রথমে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) কামরুজ্জামানকে। তিনি ২০১৭ সালের ১২ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আদালত মামলাটির তদন্ত ত্রুটিপূর্ণ বিবেচনায় আমলে না নিয়ে মামলাটির তদন্ত র‌্যাব-৭ এর পুলিশ সুপার মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকীকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। মামলার তদন্তভার নিয়ে তিনি মামলাটির বিশদ তদন্ত শেষে গত মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অংশটুকুর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন আছে।

কোকেন জাতীয় মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা অপরাধের অংশটুকু তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. কামরুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দিলেও আদালত তা গ্রহণ না করে আবারও র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ককে তদন্ত করে চার্জশিট দিতে বলেন। পরে র‌্যাব-৭ এর পুলিশ সুপার মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকীকে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করলে তিনি মামলাটি বিশদ তদন্ত শুরু করেন। বন্দরের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার আলামত রাখা ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের আদেশে মামলার আলামত ধ্বংসের অনুমতি নেন। ২০২০ সালের ৫ ফেব্রæয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, র‌্যাবের মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে কোকেন ও সূর্যমুখী তেল ধ্বংস করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে সোমবার আদালতে ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, আসামিরা বিদেশ থেকে কোকেন এনে তা রিফাইন করে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন।

-এসকেকে/এইচ.এম।