Real Time True News

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতিরি অবনতি

বিএনএ ডেস্ক: কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ১৬টি নদ-দীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত দু’লাখ মানুষ। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ।শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে বৃষ্টির কারণে জ্বালানী নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বানভাসিদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন্যায় ১ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। মৎস্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না জানালেও ইতোমধ্যে শতাধিক পুকুর প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছচাষিরা।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ইতোমধ্যে বানভাসিদের জন্য ৩০২ মে.টন চাল এবং ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যা কবলিতরা যাতে খাদ্য সংকটে না পরে এবং তাদের সম্পদ রক্ষা করাসহ নিরাপদে সরিয়ে নেবার বিষয়ে জেলা-উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলার পানি ওঠানামা করে কিছুটা কমলেও এখন পর্যন্ত বিপদসীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কুরুল এলাকায় ধরলা নদীর ডানতীরে বাঁধের একটি অংশ ভেঙ্গে নদীর পানি গ্রামে ঢুকছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ভেসে গেছে কয়েকটি মৎস্য খামারের মাছ। পানিবন্দি শতাধিক চর ও দ্বীপচরে পানিবন্দি মানুষকে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। নলকূপগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে সরকারি রাস্তা ও বাঁধের উপর আশ্রয় নেয়া মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। কোনরকম শুকনো খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে তাদের।

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতিরি অবনতি
জামালপুর: জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। জেলার বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি ২৯ সেন্টিমিটার বেড়ে সোমবার(২৯ জুন) সকালে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৬টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি ২০ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে স্বাভাবিক পানির স্তর হচ্ছে ১৯ দশমিক ৫০।
দ্রুত পানি বাড়ার ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করছে। ইতোমধ্যেই জেলার ৬টি উপজেলা ২৫টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বন্যায় কবলিত হয়েছে ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা।দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ইসলামপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এখন পানি নিচে। অনেকেই বাড়ি ঘরছেড়ে উচু স্থানে ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতিরি অবনতি
গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় যমুনা, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৬৩ সে.মি. ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পাড়েছে অন্তত ২৫ হাজার মানুষ।সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদরের ৩টি, ফুলছড়ির ৬টি ও সাঘাটার ৩টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে।বন্যা মোকাবেলায় ও বন্যার্ত মানুষদের দূর্ভোগ লাঘবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আশ্রয় কেন্দ্র খোলাসহ ত্রান তৎপরতায় কাজ করা হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বন্যা প্রতিদিন বিস্তৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১১টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনার পানির উচ্চতা দ্রুতগতিতে বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। কেননা, কেবল এই নদ-নদীর পানির কারণে দেশে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, সব প্রধান নদ-নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে, যা আগামি বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। পদ্মানদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টের পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। স্থিতিশীল থাকতে পারে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি উচ্চতা। তবে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিলেট, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

আর করিম চৌধুরী