Real Time True News

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১৭১

গোপালগঞ্জের প্রত্যেকটা জিনিসের সাথে আমার পরিচয়। এই শহরে আলো-বাতাসে আমি মানুষ হয়ছি। এখানেই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছে।

আজ প্রকাশিত হলো পর্ব : ১৭১

দশটার সময় আমাকে কোর্টে  হাজির করল। অনেক লোক জমা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট হুকুম দিলেন, আমাকে থানা এরিয়ার মধ্যে রাখতে। পরের দিন মামলার তারিখ। গোপালগঞ্জ সাবজেলে ডিভিশন কয়েদি ও নিরাপত্তা বন্দি রাখার কোনো ব্যবস্থাই নাই। কোর্ট থেকে থানা প্রায় এক মাইল, আমাকে হেঁটে যেতে হবে। অন্য কোনো ব্যবস্থা নাই। কারণ, তখন গোপালগঞ্জে রিকশাও চলত না। অনেক লোক আমার সাথে চলল।

গোপালগঞ্জের প্রত্যেকটা জিনিসের সাথে আমি পরিচিত। এখনকার স্কুলে লেখাপড়া করেছি, মাঠে খেলাধুলা করেছি, নদীতে সাঁতার কেটেছি, প্রতিটি মানুষকে আমি জানি আর তারাও আমাকে জানে। বাল্যস্মৃতি কেউ সহজে ভোলে না। এমন একটা বাড়ি হিন্দু-মুসলমানের নাই যা আমি জানতাম না। গোপালগঞ্জের প্রত্যেকটা জিনিসের সাথে আমার পরিচয়। এই শহরে আলো-বাতাসে আমি মানুষ হয়ছি। এখানেই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছে। নদীর পাড়েই কোর্ট ও মিশন স্কুল। এখন একটা কলেজ হয়েছে। ছাত্ররা লেখাপড়া ছেড়ে বের হয়ে পড়ল, আমাকে দেখতে। কিছুদূর পরেই দু’পাশে দোকান, প্রত্যেকটা দোকানদারের আমি নাম জানতাম। সকলেই কুশলাদি জিজ্ঞাসা করতে করতেই থানার দিকে চললাম।

থানায় পৌঁছালেই দারোগা সাহেবরা আমাকে একটা ঘর দিলেন, যেখানে স্বাধীনতার পূর্বে রাজনৈতিক কর্মীদের নজরবন্দি রাখা হত। এই মহল্লায় আমি ছোট সময় ছিলাম। তখন নজরবন্দিদের সাথে আলাপ করতাম ও মিশতাম। আমি ছোট ছিলাম বলে কেউ কিছু বলত না। আজ ভাগ্যের পরিহাস আমাকেই সেই পুরানা ঘরে থাকতে হল, স্বাধীনতা পাওয়ার পরে।

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : মনির ফয়সাল

আগের পর্ব পড়ুন : বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১৭০