Real Time True News

বাংলাদেশি পতাকাবাহী দ্বিতীয় কনটেইনার জাহাজের সমুদ্র যাত্রা শুরু

।।মনির ফয়সাল।। বাংলাদেশ এক্সপ্রেস সার্ভিসের বাংলাদেশি পতাকাবাহী দ্বিতীয় জাহাজের যাত্রা শুরু হল সমুদ্রে পথে। ১ হাজার ২০০ টিইইউএস কনটেইনার নিয়ে এমভি সাহারে সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ত্যাগ করে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং এর উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি(বিএনএ)কে জানান, এমভি সাহারে সোমবার দুপুর আড়াই টার দিকে ১ হাজার ২০০ টিইইউএস কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ত্যাগ করেছে। তার মধ্যে ৫০০ টিইইউএস কনেটইনার ছিল খালি। বাকি ৭০০ টিইইউএস কনটেইনারে ছিল রফতানি পণ্য। যার মধ্যে তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাট, চামড়া এবং হস্তশিল্পের পণ্যের পাশাপাশি হিমায়িত সীফুড।

কর্ণফুলী গ্রুপের তথ্য মতে, বাংলাদেশ এক্সপ্রেস সার্ভিসে বাংলাদেশি পতাকাবাহী  এমভি ‘সারেরা’ ও এমভি ‘সাহারে’ নামে দুইটি কনটেইনার জাহাজ যুক্ত হয়েছে। দুটি জাহাজই প্রতিবার সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০ টিইইউএস কনটেইনার পরিবহন করতে পারবে। জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং  রুটে চলাচল করবে।

দীর্ঘ ১০ বছর পর ওই রুটে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ যুক্ত হওয়ায় দেশের আমদানি বা রফতানিকারকদের পণ্য পরিবহনে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ও সময় সাশ্রয় হবে।

জানা যায়, বাংলাদেশ এক্সপ্রেস সার্ভিসের জাহাজ দুইটির আগে নাম ছিল কোটা ওয়ারিস (সারেরা) এবং কোটা ওয়াজার (সাহারে)। বিশ্বের ৯ তম বৃহত্তম কনটেইনার অপারেটর সংস্থা প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লাইনস্ (পিআইএল) সিঙ্গাপুরী কোম্পানি থেকে জাহাজগুলি ক্রয় করেছে কর্ণফুলী গ্রুপ।

কর্ণফুলী গ্রুপের পরিচালক হামদান হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ)কে বলেন, বর্তমানে ২২ টি ফিডার অপারেটরের অধীনে মোট ৮৪ টি কনটেইনার ফিডার বাংলাদেশের আমদানী রপ্তানী পণ্য বোঝাই কনটেইনার বহন করছে।

তিনি বলেন, কৌশলগত দিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ যে বাংলাদেশের নিজস্ব পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে এবং বাংলাদেশি অপারেটররা এই বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছে। এতে বিপুল বৈদশিক  মুদ্রার সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় নাবিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

হামদান হোসেন চৌধুরী বলেন,  কর্ণফুলী গ্রুপ শিপ এজেন্সি ব্যবসায় কয়েক দশক ধরে জড়িত ছিল এবং আমাদের ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা এবং কীভাবে আমরা এটি আরও ভালভাবে সেবা দিতে পারি সে সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। এজেন্সি ব্যবসা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ তবে  তবে এটিও সময় এসেছে যে আমরা শিপ মালিকানা এবং বাংলাদেশী সংস্থা হিসাবে জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বৈচিত্র আনতে চাই।

এর আগে ২৩ জুন প্রায় ১ হাজার ২৫০ টিইইউএস কনটেইনার নিয়ে বাংলাদেশ এক্সপ্রেস সার্ভিসের প্রথম দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজ  সারেরা চট্টগ্রাম বন্দর হতে  সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং এর উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়।

প্রসঙ্গত, শিপিং ব্যবসায় কর্ণফুলী লিমিটেড দেশের প্রথম প্রজন্মের প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামে হেদায়েত হোসেন চৌধুরীর হাত ধরে গ্রুপটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন হেদায়েত হোসেন চৌধুরীর ছোট ছেলে সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী। কনটেইনার শিপিং কোম্পানির এজেন্সি হিসেবে এটি যুক্ত হয় ৩৩ বছর আগে। এর আগে বেসরকারি খাতে দুটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পাতাকাবাহী জাহাজে কনটেইনার পরিবহন করত। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো এইচআরসি গ্রুপ ও কিউসি কনটেইনার লাইন। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে এই ব্যবসায় যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠান দুটি। এইচআরসির হাতে ১০টি ও কিউসির হাতে ৭টি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজের মালিকানা ছিল। এক দশক পর দেশীয় প্রতিষ্ঠানের হাত থেকে ধীরে ধীরে পুরোটাই বিদেশিদের হাতে চলে যায় এ ব্যবসা। ২০০৭ সালে কিউসি ও ২০১০ সালে এইচআরসির দেশীয় পতাকার কনটেইনার জাহাজগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনেরও(বিএসসি) একাধিক দেশীয় পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ছিল।যেমন বাংলার রবি ও বাংলার মনি। এগুলোও পরবর্তীতে অকেজো হয়ে পড়ে।

এখন দুইটি জাহাজ নিয়ে আবারও দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্রুপ এই ব্যবসার সূচনা করলো। এইচআরসি গ্রুপের কর্ণধার সাঈদ হোসেন চৌধুরী সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরীর বড় ভাই। সকলেই কর্ণফুলী গ্রুপ থেকে বের হয়ে পৃথকভাবে শিপিং ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। এক সময় বিশ্বের বড় বড় জাহাজ ও শিপিং কোম্পানীর স্থানীয় এজেন্ট ছিল কর্ণফুলী গ্রুপ। কর্ণফুলী গ্রুপ ছাড়াও সাবের হোসেন চৌধুরী শিপিং কোম্পানী পিআইএল বাংলাদেশ লি. অন্যতম কর্ণধার। এইচআরসির অধীনেও তিন চারটি শিপিং কোম্পানী রয়েছে।যেগুলো মূলত: এজেন্সি হিসেবে কাজ করে।

বিএনএ/এসজিএন