Real Time True News

ঢামেক’র ২০ কোটি টাকার বিল কান্ড, হতবাক প্রধানমন্ত্রী

বিএনএ,ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবাদানকারি ২০০ চিকিৎসক, নাস ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হোটেলে থাকা ও খাবার বিল করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। বিলটি স্বাস্থ্যমন্ত্রালয় হয়ে অর্থমন্ত্রালয়ে পাঠানো হয়। অর্থমন্ত্রালয় এ বিলে বিস্ময় প্রকাশ করে তা পরিশোধ করা থেকে বিরত থাকে। গত ২৬ জুন একটি অনলাইন পোর্টাল একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ সংবাদটি দ্রুত ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডাক্তারা হতবাক হয়। তাদের কয়েকজন ফেসবুকে খাবারের ছবি ও খাবারের দাম লিখে স্ট্যাটাস দেয়। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার খোরাক হয়। ২৯ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের হাসপাতালের খাবারের বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জবাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা কী করে হয়, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবায় সরাসরি নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হোটেলে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে।এক মাসে ২০ কোটি টাকা খাবার বিল, অস্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। এটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এত অস্বাভাবিক কেন হবে? যদি কোনো অনিয়ম হয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতাএর জবাবে এসব কথা বলেন সরকার প্রধান।

সে সময় সংসদ নেতা আরও বলেন, ‘দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার কম রাখা সম্ভব হয়েছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে দুই হাজার ডাক্তার ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে তিন হাজার টেকনিশিয়ান, কার্ডোগ্রাফার এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্টের পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।সরকার আরও দুই হাজার চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করেছে। চার হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে। তাদের শিগগিরই নিয়োগ দেয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে দেখা যায়, ডাক্তারদের যে নাস্তা দেয়া হয় তাতে দামের একটি তালিকা দেয়া হয়। এতে দেখা যায় সরবরাহ করা নাস্তার দাম ১১,১১১ টাকা। ২ পিস রুটির মূল্য ৭,০০০ টাকা ১ টা কলার মূল্য ২,০০০ টাকা ১ টি ডিমের মূল্য ১,০০০ টাকা ১ টি ওয়ান টাইম প্লেটের মূল্য ১,০০০ টাকা ১টি টিস্যুর মূল্য ১১১ টাকা। তবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে থাকা খাওয়া মিলিয়ে ২০ কোটি টাকা হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে স্ট্যাটাস করোনা ভাইরাসের মতো জ্যামিতিকহারে ভাইরাল হচ্ছে তা কাল্পনিক!

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন বক্তব্য দেননি। ফলে গণমাধ্যমে খন্ডিতভাবে বিষয়টি উপস্থাপন হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে জানালে প্রকৃত তথ্য জানা যেত, কী কান্ড ঘটেছে খাবার ও থাকার বিল নিয়ে?
nbsp;