Bnanews
Bnanews.com.bd is the organization site of Bangladesh News Agency. Bnanews is a Banglanews Portal

সদকাতুল ফিতরের গুরুত্ব

বিএনএ ডেস্ক:পবিত্র রমজানের ইবাদতের মধ্যে সদকাতুল ফিতর আদায় করা অন্যতম একটি ইবাদত। রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে আসে ঈদুল ফিতর।ঈদের আনন্দ ধনী-গরিব সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং এ আনন্দে যাতে মুসলিম জাতির প্রতিটি সদস্য শরিক হতে পারে,এ জন্য সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করা হয়েছে।রমজানের রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিপূর্ণতার জন্যই আবশ্যক করা হয়েছে এটি।

চিরসুন্দর ও চির আধুনিক ইসলামের প্রতিটি বিধানের পেছনে মহান উদ্দেশ্য রয়েছে। তেমনিভাবে সদকাতুল ফিতর আদায়ের মধ্যেও ইহজাগতিক ও পারলৌকিক উভয় কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এটি অনেকটা আধুনিক যুগের রিফাইনিং মেশিনের মত। যেটির মাধ্যমে পূণ্যকে পরিশুদ্ধ করা হয়।

নারী-পুরুষ,স্বাধীন-পরাধীন,শিশু-বৃদ্ধ,ছোট-বড় সকল মুসলিমের জন্য সদকাতুল ফিতর প্রদান করা ওয়াজিব। হযরত ইবনে উমর থেকে জানা যায়ঃরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক স্বাধীন-ক্রীতদাস, নারী-পুরুষ, ছোট-বড় মুসলমানের সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন।ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য বের হওয়ার আগেই তা আদায় করার জন্য আদেশ দিয়েছেন হুজুর(সঃ)।

ইবনে ওমর বলেন, ঈদের দিন সকালে যদি কেউ মৃত্যুবরণ করেন, তার জন্য ফিতরা আদায় করা ফরজ নয়। আবার ঈদের দিন সকালে কোন শিশু ভূমিষ্ঠ হ’লে তার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ফরজ।সদকাতুল ফিতরা হল জানের সদকা, মালের নয়। বিধায় জীবিত সকল মুসলিমের জানের সদকা আদায় করা ওয়াজিব। কোন ব্যক্তি সিয়াম পালনে সক্ষম না হলে তার জন্য ফিতরা ফরজ।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা পালনকারীর জন্য সদকাতুল ফিতর আদায় অপরিহার্য করে দিয়েছেন, যা রোজা পালনকারীর অনর্থক, অশ্লীল কথা ও কাজ পরিশুদ্ধকারী এবং অভাবী মানুষের জন্য আহারের ব্যবস্থা।যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের আগে এটি আদায় করবে, তা সদকাতুল ফিতর হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।আর যে ঈদের সালাতের পর আদায় করবে তা অপরাপর (নফল) সদকা হিসেবে গৃহীত হবে।(আবু দাউদ, হাদিস নং: ১৩৭১)।

অলিদের সর্দার হিসেবে খ্যাত হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) রচিত বিশ্ববিখ্যাত কিতাব ‘গুনিয়াতুত ত্বালেবিন’র মধ্যে উলেখ রয়েছে,‘রমজানের রোজার জন্য সদকাতুল ফিতর হচ্ছে নামাজের সাহু সিজদার ন্যায়। সাহু সিজদার মাধ্যমে যেমন নামাজের ত্রুটি সংশোধন করা হয় তেমনি রোজার যাবতীয় ত্রুটিকে সংশোধন করার মাধ্যম হচ্ছে সদকাতুল ফিতর’।

সদাকায়ে ফিতর সম্পর্কিত হাদীসগুলো পর্যালোচনা করলে এ বিষয়ে মোট পাঁচ প্রকার খাদ্যের বর্ণনা পাওয়া যায়: যব, খেজুর, পনির, কিসমিস ও গম। এ পাঁচ প্রকারের মধ্যে যব, খেজুর, পনির ও কিসমিস দ্বারা সদকা ফিতর আদায় করতে চাইলে প্রত্যেকের জন্য এক ‘সা’ পরিমাণ করে দিতে হবে। আর গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে আধা ‘সা’ দিতে হবে।(সহিহ বুখারি- ১৫০৩)।সা’র বর্তমান পরিমাণ হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন কেজি।

এটি হলো ওজনের দিক দিয়ে তফাৎ।আর মূল্যের দিক থেকে তো পার্থক্য রয়েছেই। যেমন-

(ক) আজওয়া (উন্নতমানের) খেজুরের মূল্য প্রতি কেজি ১০০০টাকা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৩২৫৬ তিন হাজার দুই শত ছাপ্পান্ন টাকা।

(খ) মধ্যম ধরনের খেজুর যার মূল্য প্রতি কেজি ৩০০ টাকা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৯৭৭ টাকা।

(গ) কিসমিস প্রতি কেজি ২৩০ টাকা করে হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৭৪৮ টাকা।

ঘ) পনির প্রতি কেজি ৫০০ টাকা করে ধরা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ১৬২৮ টাকা।

ঙ) গম প্রতি কেজি ৩৫ টাকা হিসাবে ধরা হলে একজনের সদকায়ে ফিতর দাঁড়ায় ৫৭ টাকা।

হাদীসে এ ৫টি দ্রব্যের যেকোনোটি দ্বারা ফিতরা আদায়ের সুযোগ দেয়া হয়েছে যেন মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী এর যেকোনো ১টি দ্বারা তা আদায় করতে পারবেন।একজন দরিদ্র মানুষকে একাধিক ফিতর দেয়া যেমন জায়েজ, তেমনি একটি ফিতরা বণ্টন করে একাধিক মানুষকে দেয়াও জায়েজ।যারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত এমন অভাবী লোকদের সদকাতুল ফিতর প্রদান করতে হবে।

আর করিম চৌধুরী

তথ্যসূত্র-ইউকিপিডিয়া, আ’মালে নাজাত