Bnanews
Bnanews.com.bd is the organization site of Bangladesh News Agency. Bnanews is a Banglanews Portal

নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রতিবাদ

গত ০১.১১.২০২০ ইং তারিখে বিএনএনিউজ২৪ নামক অন-লাইন সংবাদ পৌর্টালে চট্টলার স্বনামধন্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসার গভর্ণিং বডি তথা সম্মানিত শিক্ষকদের নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় । যাতে আমরা শুধুই বিম্মিত হয়নি, বরং বাকরূদ্ধ হয়েছি। এ কথা কারো অজানা নয় যে, এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের শীর্ষস্থানে অবস্থানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের একটি । গোটা দেশজুড়েই রয়েছে যার খ্যাতি।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ এরফানুল হক প্রতিবাদ লিপিতে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-শৃংখলা, পাঠদান প্রক্রিয়া, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সর্বোপরি গভর্ণিং বডি, শিক্ষক , ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক মহলের মধ্যে রয়েছে পরস্পরের মধ্যে অপূর্ব সমন্বয়। যেটিকে একটি আদর্শিক প্রতিষ্ঠানের অনন্য মডেল বললে কোনভাবেই অত্যুক্তি হবেনা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ! এ স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বিরোধী একটি অশুভ দুষ্ট-চক্র অত্র প্রতিষ্ঠানকে ধবংস করার হীন মানসে উঠেপড়ে লেগেছে।

উক্ত স্বার্থান্বেষী মহলটি আড়ালে- আবডালে ওঁৎ পেতে থেকে মাদরাসার বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। অতঃপর বিগত ১ নভেম্বর ২০২০ ইং একটিইঘঅনামক অন-লাইন পত্রিকায় অত্র প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্ভট, অবান্তর, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কতিপয় অভিযোগ উত্থাপন করে তাদের অবাঞ্চিত ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। যা শুধু নিন্দনীয় নয়, বরং গর্হিত অপরাধও বটে। আমরা এই জঘন্য গর্হিত কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি ।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭৮ ইং সালের ১৪ই জানুয়ারী ছারছিনা দরবার শরীফের পীর মরহুম হযরত শাহছুফি আলহাজ¦ মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ (র:) এর পবিত্র হাতে ও দেশবরেণ্য আলেমেদ্বীন মুফতিয়ে আহলে সুন্নাত মরহুম আল্লামা মুফতি মুজাফফর আহমদ (র:) এর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা ।

ছারছিনা দরবার শরীফের আলা হযরত মরহুম শাহছুফী আলহাজ¦ মাওলানা নেছার উদ্দীন আহমদ (র:) এর নামে এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে নিরবচ্ছিন্ন দ্বীনি কাজ আঞ্জাম দিয়ে আসছে। অত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর ইবতেদায়ী সমাপনী, জেডিসি, দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল, অনার্স-মাস্টার্স সকল স্তরে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি এ প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক, ছাত্রাবাস, এতিমখানা, হেফজখানা সহ সকল বিভাগের যাবতীয় হিসাব-নিকাশ অডিটের মাধ্যমে সু-সম্পন্ন করা হয়।

অতএব, অত্র প্রতিষ্ঠানের শুভাকাঙ্খী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে এ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি এবং উক্ত অভিযোগের অপনোদনে সঠিক তথ্য নিচে উপস্থাপন করছি।

** অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত ঃ চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা একটি সমন্বিত প্রতিষ্ঠান। ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক স্তর যা প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে আলিম পর্যন্ত (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর) বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এর অধীন, আর ফাজিল, কামিল, অনার্স-মাস্টার্স স্তরগুলো ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে। যেথায় নির্বাচিত একটি গভর্ণিং বডি রয়েছে, যা মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইসলামিআরবি বিশ^বিদ্যালয়ের সুর্নিদিষ্ট বিধি মোতাবেক গঠিত ও অনুমোদিত। সুতরাং পরিচালনা পরিষদ তথা গভর্ণিং বডি বিষয়ক অভিযোগ সম্পূর্ণ অমূলক।

প্রতিবেদনটির এক জায়গায় উল্লেখিত হয়েছে যেপাহাড়তলী থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি জনাব আলহাজ¦ নুরুল আবছার মিয়া অভিযোগ করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। অথচ জনাব আলহাজ¦ নুরুল আবছার মিয়া এহেন অভিযোগ কখনো করেননি বলে মাদরাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জানিয়েছেন।

এছাড়াও প্রতিবেদনে গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ক যে অভিযোগ করা হয়েছে তাও সত্য নয় । কেননা শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত বিষয়টি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় গত ২০১৯ইং সালে । আর অত্র মাদরাসার গভর্ণিং বডি গঠিত হয়েছে গেজেট প্রকাশের পূর্ববর্তী নীতিমালার আলোকে ।

** গভর্ণিং বডি ও শিক্ষক প্রতিনিধি বিষয়ক অভিযোগ সংক্রান্ত ঃ চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসায় শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ সম্মতিতে (ভোটে) শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি কোন শিক্ষক বা অভিভাবক কখনো শিক্ষক প্রতিনিধি বা গভর্ণিং বডির বিরুদ্ধে এযাবত কোন ধরণের লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি। গভর্ণিং বডির প্রত্যেক সদস্য অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সহমর্মীতার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রেখে আসছেন । শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মন্ডলী সকলে বর্তমান গভর্ণিং বডির প্রতি সন্তুষ্ট। অত্র প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নজরকাড়া সাফল্যই যার অনন্য দৃষ্টান্ত ।

** অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়াবিষয়ক অভিযোগ সংক্রান্ত ঃ বিগত ২৯শে ফেব্রুয়ারী ২০২০ইং তারিখে অধ্যক্ষ জনাব মাওলানা আ .ব. ম জয়নুল আবেদীন মহোদয় অবসর গ্রহণ করেন। অতঃপর এ পদটি শূণ্য হয়। উক্ত শূণ্য পদ পূরণের জন্য বিধি মোতাবেক গত ৬ অক্টোবর ২০২০ইং বহুল প্রচারিত জাতীয়ও আঞ্চলিক দুটি সংবাদপত্র যথাক্রমে দৈনিক ইনকিলাব ও দৈনিক পূর্বদেশে আগ্রহী প্রার্থীদের নিকট থেকে দরখাস্ত আহবান সম্বলিত একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। যেটির শেষ সময়সীমা ছিল (১৫ কর্মদিবস) অর্থাৎ ২৭ /১০/২০২০ ইং পর্যন্ত । অথচ প্রতিবেদনে এটি নিয়েও এক ভিত্তিহীন তথ্যের অবতারনা হয়। যেথায় এই দুটি পত্রিকাকে অখ্যাত হিসেবে অভিহিত করা হয়। যা একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নিকট থেকে কোনভাবে প্রত্যাশিত নয়। সত্যিকার অর্থে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির এহেন কান্ডজ্ঞানহীন মন্তব্যে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরী হবে।

** অডিটবিষয়ক অভিযোগ সংক্রান্ত ঃ প্রতিবেদনটির একস্থানে উল্লেখিত হয়েছে যে, অত্র মাদরাসার ২০ বছর যাবত সরকারী কোন অডিট হয়নি। এ ধরনের একটি উদ্ভট তথ্যে নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, কথিত প্রতিবেদক কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এহেন ঘৃন্য কাজটি করেছেন। কারণ গত ০৩ নভেম্বর ২০১১ ইং তারিখেও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষন অধিদপ্তরের সম্মাানিত পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শক কর্তৃক যৌথভাবে অত্র প্রতিষ্ঠানের অডিট কার্য সম্পাদন করেন।যার রিপোর্ট অত্র প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত আছে। এ ছাড়াও বছর সমাপনান্তে অত্র প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয়-ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব নিকাশ নির্ধারিত সি এ ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষণ করা হয়। উল্লেখ্য যে, অত্র প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত যাবতীয় লেনদেন শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক পাহাড়তলী শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।এক্ষেত্রে আনীত অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই, যা বিদ্ধেষপ্রসূতমনোবৃত্তি বৈ আর কিছু নয়।

** শিক্ষকগণের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত ঃ অত্র প্রতিষ্ঠানের যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তা মূলতঃ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। অত্র প্রতিষ্ঠানের আরবি প্রভাষক জনাব মাওলানা আ.ফ.ম. গোলাম মাওলা সাহেব গত ১০/১০/১৯৯৯ ইং তারিখে সরকারী বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত আছেন। গত ০১.১২.২০০০ ইং তারিখে তাঁর এমপিও আসে এবং তিনি বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। এর পূর্বে তিনি সহকারী মৌলভী পদে কর্মরত ছিলেন।

সাবেক অধ্যক্ষ যেসকল শিক্ষক- কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে পূর্নাঙ্গ নিয়োগ বিধি অনুসরন করা হয়েছে। তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য হারে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পায় এবং আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিস বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু হয় । সুতরাং নতুন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে আরবি বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃক বাধ্যবাধকতা থাকায় উক্ত বিভাগে ৫ জন শিক্ষক বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেয়া হয়।

** অস্থায়ী শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বিষয়ক অভিযোগ সংক্রান্ত ঃবেসরকারী (এমপিও ভুক্ত) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী দুই ধরনের শিক্ষক থাকে । স্থায়ী শিক্ষকদের বেতন ভাতা সরকার দিয়ে থাকে আর অস্থায়ী শিক্ষকদের যাবতীয় বেতন ভাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দেয়া হয়। বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠানে ৪৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত। তম্মধ্যে ২০ জন অস্থায়ী ও খন্ডকালিন শিক্ষক-কর্মচারী। গত মার্চ থেকে বিশ^ব্যাপি কোভিড-১৯ এর কারণে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা সত্তেও বর্তমানে স্থায়ী ও অস্থায়ী সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন চালু রয়েছে। সুতরাং প্রতিবেদকের এমন অভিযোগ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

** নন-এমপিও শিক্ষকদের পাবলিক পরীক্ষার কমিটি বিষয়ক অভিযোগ সংক্রান্ত ঃ অত্র প্রতিষ্ঠানে দুইটি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি রয়েছে, একটি আভ্যন্তরীন পরীক্ষার জন্য, অন্যটি পাবলিক পরীক্ষার জন্য। অত্র মাদ্রাসায় আরবি বিশ^বিদ্যালয়ের অধীন অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের পরীক্ষাগুলো উক্ত বিভাগে পাঠদানরত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নেয়া হয় । এছাড়া ফাজিল, কামিল, আলিম, দাখিল, জেডিসি প্রভৃতি পাবলিক পরীক্ষায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নেয়া হয়। পাবলিক পরীক্ষার কমিটিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ অন্তর্ভূক্ত থাকেন। উক্ত কমিটিতে কোন নন-এমপিও শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্তির সুযোগ নাই। সুতরাং এমন অসত্য সংবাদ প্রচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করা কোনোভাবেই সমীচিন নয়।

** জনাব শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সংক্রান্ত ঃঅত্র প্রতিষ্ঠানের বিদ্যোৎসাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারণ তিনি নিজে সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাদরাসার জন্য যাকাৎ, ফিৎরা প্রভৃতি অনুদানের টাকা কালেকশন করেন। কোন ধরনের কমিশন তিনি গ্রহণ করেন নি। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ, ধর্মপরায়ন মুসলমান হিসেবে অত্র এলাকার গুণীজন মহলে খুবই সমাদৃত। তিনি মহল্লা কমিটির প্রধান সমাজপতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, মতোয়াল্লী প্রভৃতি পদে থেকে ইসলামের নিরবচ্ছিন্ন খেদমত করে যাচ্ছেন ।
গত ২০১৯ সালে শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর কর্তৃক অত্র প্রতিষ্ঠানের জন্য ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন বরাদ্দ হয়। যার জন্য মাদরাসার সেমিপাকা (হোস্টেলের জন্য বরাদ্দ) ৪টি কক্ষ ভাঙ্গতে হয়েছে, যার প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় ৮,৯৮,১১০ /- ( আট লক্ষ আটানব্ব্ই হাজার একশত দশ ) টাকা ছিল। যা গভর্ণিং বডির সভায় অনুুমোদিত।

মাদরাসার রিভরএর সংযোগ পূর্ব হ’তেঞ্ঞএর সাথে ছিল অফিসিয়াল কাজের জন্য। পরবর্তীতে
বাতায়ন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ, অন-লাইন ক্লাশ এর জন্য আরো একটি রিভর এর সংযোগ নে’য়া হয়েছে, যার ব্যয় মাত্র ৫,০০০/- টাকা। ৭০,০০০/- টাকার বিনিময়েরিভরএর সংযোগ লাগানো হয়েছে মর্মে অভিযোগ একেবারেই অবান্তর।

জনাব শাহজাহান চৌধুরী সাহেব অত্যন্ত ভদ্র স্বভাবের লোক। তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী বান্ধব লোক। তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষক লাঞ্চনার বিষয়টি অমূলক । এবং তাঁর ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার ঘৃন্য ষড়যন্ত্র ।

মাদরাসায় এমন কোন কর্মকান্ড সংগঠিত হয়নি, যার জন্য টেন্ডার আহবান করার প্রয়োজন পড়ে । যা হয়েছে তার অধিকাংশ ব্যয়ভার জনাব শাহজাহান চৌধুরী সাহেবের প্রচেষ্টায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের থেকে সংগৃহীত অর্থ থেকেই হয়েছে ।

**মাদরাসার টাকা ছিনতাই বিষয়ক অভিযোগ সংক্রান্ত ঃ গত ৪ জুলাই ২০১৯ খ্রিঃ শাহজালাল ব্যাংক , পাহাড়তলী শাখা থেকে =৩,৭০,০০০/- (তিন লক্ষ সত্তর হাজার টাকা)
(পরিমানের তথ্য টি ভূল, সঠিক পরিমাণ = ৩,৭১,৭০০/- তিন লক্ষ একাত্তর হাজার সাত শত টাকা) মাদ্রাসায় ফেরার পথে অফিস সহকারী জনাব নূরুল মুস্তফা থেকে ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করে নিয়ে যায। যা একই দিন পাহাড়তলী থানায় অভিহিত করলে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করার পর তিনি বিষয়টি ছিনতাই বলে মত প্রকাশ করেন।

দুই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের চাকুরী করার অভিযোগ সংক্রান্ত ঃ জনাব মাওলানা হাফিজুর রহমান গত ২০১৬ খ্রি: প্রতিষ্ঠানিক বেতনে সহকারী শিক্ষক (খন্ড কালিন) হিসেবে যোগদান করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সাথে সাথে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালনাধীন গণশিক্ষা প্রকল্পের পাহাড়তলী জোনের রিসোর্স সেন্টারের মডেল কেয়ারটেকার (চুক্তি ভিত্তিক)। যা সরকারি রাজস্ব আওতামুক্ত। উল্লেখ্য যে, ফাউন্ডেশনের পরিচালিত গণশিক্ষা কেন্দ্রগুলো সকাল বেলায় পরিদর্শনে যায়, যাতে মাদ্রাসার দায়িত্ব পালনে কোন ব্যঘাত ঘটেনা।

জনাব মাওলানা আব্দুল আলীম বন্দর মসজিদে চাকরিরত পাশাপাশি কুরআনুল করিমের খেদমত হিসেবে অত্র মাদ্রাসায় ক্বারী পদে (খন্ড কালিন) দাযিত্ব পালন করে যাচ্ছেন। উক্ত দুই শিক্ষক দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে মর্মে যে অভিযোগ রয়েছে, তা সত্যবটে । তবে তাতে প্রতিষ্ঠানিক ব্যাঘাত সৃিষ্ট করে না ।

যৌন হয়রানি বিষয়ক অভিযোগ সংক্রান্ত ঃ জনাব মাওলানা মুহাম্মদ জানে আলম নিজামী ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসায় দাখিল নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ধারাবাহিক ভাবে দাখিল আলিম, ফাযিল ও কামিল হাদিস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে ২০০৫ সালে উত্তির্ণ হন । ২০০৫ সালের জুন মাস থেকে পাঠ দানের নিয়োগ পেয়ে অদ্যাবধি সততা ও দক্ষতার সাথে পাঠ দান করে সুনাম অর্জন করেছেন।এছাড়া একজন ধর্মীয় সুবক্তা হিসেবে দেশব্যাপী তাঁর সুখ্যাতি রয়েছে। তিনি একজন ওয়ায়েজীন আলেম হিসেবে সর্বমহলে সমাদৃত। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মিথ্যা অভিযোগ এনে মূলতঃ তার জনপ্রিয়তা ও সুনাম ক্ষুন্ন করার গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দ্যেশ প্রণোদিত । রিপোটের্ই প্রমাণ করে যৌন হয়রানির অভিযোগ উদ্দ্যেশ মূলক। মাদ্রাসার শিক্ষকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ ছিল না।

শিক্ষক জনাব আব্দুল হাই ২০১১ সালে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে মর্মে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা। মূলত তিনি ২০১৫ সালে খুলনা রুপসা কেজি স্কুলে শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ায় অব্যাহতি দিয়ে চলে যায়। তার অব্যাহতিপত্র মাদরাসা অফিসে সংরক্ষিত আছে। উল্লেখ্য যে, মাদরাসার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সর্বদা অধ্যক্ষ মহোদয়ের নিকট সংরক্ষিত ছিল, এখনো আছে।

অতএব, আনিত অভিযোগটি ভিত্তিহীন বানোয়াট । অতএব, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কোন প্রকার অনুসন্ধান ব্যতিরেকে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এহেন উদ্ভট ও মনগড়া রিপোর্ট করে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমুর্তিতে চরমভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে কোনভাবেই বস্তুনিষ্ঠতার প্রতিফলন ঘটেনি। যা নিতান্তই হলুদ সাংবাদিকতা বৈ আর কিছুই নয়। আমরা এ জঘন্য মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।